২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা
গাজা উপত্যকার দক্ষিণের শহর খান ইউনিস বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক হামলার শিকার। শহরটির বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বললেও, হতাহতের সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিধ্বংসী হামলা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি:
খান ইউনিস, যা একসময় গাজার অন্যতম জনবহুল শহর ছিল, এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে সীমান্ত বেড়ার এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ২৮২৪টি ভবনের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে, খান ইউনিসের কাছে থাকা ভবনগুলোর ৬৭ শতাংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে শহরটির অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, এবং আবাসিক এলাকাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতালে হামলা: মানবিক বিপর্যয়:
ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এবং হাসপাতালগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুলগুলো, যা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল, সেখানেও হামলায় বহু মানুষ নিহত হচ্ছেন। সম্প্রতি একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যদিও বিভিন্ন সূত্র নিহতের সংখ্যা ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত উল্লেখ করেছে। শহরের প্রধান হাসপাতাল, নাসের হাসপাতাল, একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা আহতদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।
বেসামরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুতি:
খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ব্যাপক সংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন। চলমান সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা গাজায় এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষরা খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের তীব্র সংকটে ভুগছেন।
ইসরায়েলের দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
ইসরায়েল বারবার দাবি করছে যে তারা হামাসের সামরিক অবকাঠামো এবং যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন দেশ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। গাজায় ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও উঠছে।
যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা:
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুদ্ধবিরতির জন্য জোর প্রচেষ্টা চালালেও, ইসরায়েল গাজায়, বিশেষ করে খান ইউনিসে, তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতি গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
উপসংহার:
খান ইউনিসের পরিস্থিতি গাজায় চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। এই শহরের ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক সংকট অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ দাবি করে। যুদ্ধবিরতি এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন গাজার লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন