২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা
ঈদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ঈদের উৎপত্তি ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে। ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর থেকেই ঈদ উদযাপন শুরু হয়। মূলত দুটি প্রধান ঈদ রয়েছে:
১. ঈদুল ফিতর (মিষ্টি ঈদ): এক মাস সিয়াম সাধনার (রোজা) পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এই ঈদ উদযাপিত হয়। এই দিনে মুসলমানরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং এক মাসের সংযমের পর আনন্দ করে। এই ঈদ মূলত ফিতরার মাধ্যমে গরিব ও দুস্থদের সহায়তা করার তাৎপর্য বহন করে।
২. ঈদুল আযহা (কোরবানির ঈদ): জিলহজ্ব মাসের দশম দিনে এই ঈদ উদযাপিত হয়। এটি মূলত হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি তাঁর আনুগত্যের স্মারক। এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি করে এবং এর মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে। এটি ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।
এই দুটি ঈদই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাতৃত্ব, ঐক্য এবং সামাজিক সংহতি জোরদার করে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ঈদ কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দরিদ্রদের মাঝে দান-সদকা বিতরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০২৫ সালের ঈদ:
২০২৫ সালে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা যথারীতি মুসলিম বিশ্বে উদযাপিত হবে। বাংলাদেশে, ঈদের এই সময়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সরকারি ছুটির কারণে শহরের কর্মব্যস্ত মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যায় প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে। এই 'ঘরমুখী যাত্রা' বাংলাদেশের ঈদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ট্রেন, বাস, লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সবাই হাসিমুখে এই কষ্ট সহ্য করে কারণ জানে যে, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ তার চেয়েও বড়।
ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরা, নামাজ আদায় করা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া এবং নানা রকম মজাদার খাবার তৈরি করা ঈদের অপরিহার্য অংশ। সেমাই, ফিরনি, পোলাও, কোরমা - এসব খাবার ছাড়া ঈদ যেন অপূর্ণ। বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা, বাচ্চাদের সালামি দেওয়া - এসবই ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
২০২৫ সালের ঈদও বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার বার্তা নিয়ে আসবে। ফালীস্তীন, সিরিয়া, ইয়েমেন বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যারা কঠিন সময় পার করছে, তাদের জন্যও ঈদ এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যা তাদেরকে আশা এবং শক্তির জোগান দেয়। ঈদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানবতা এবং সহমর্মিতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এটি একটি সুযোগ, যেখানে আমরা অতীতের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি এবং ভবিষ্যতের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন