২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা

ছবি
 ২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগঘন বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একদিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে, অন্যদিকে দেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা ২০২৫ সালের সেই সব ঘটনা ও অঘটনগুলো তুলে ধরছি যা আমাদের জাতীয় জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ১. বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ: একটি যুগের অবসান ২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এবং আপসহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।  * মহাপ্রয়াণ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে তাঁর এই প্রস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।  * রাষ্ট্রীয় শোক: তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর সারাদেশে সাধারণ ছুটি পালন কর...

গরমের দিনেই কেন এসি নয়, ফ্যান ভালো: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা


 তীব্র গরমে প্রশান্তি পেতে আমাদের প্রথম পছন্দ সাধারণত এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। এসি ছাড়া গ্রীষ্মকাল যেন অকল্পনীয়—বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায়শই অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এসি'র ঝলমলে ঠান্ডার আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এবং পরিবেশগত উদ্বেগ? আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ ফ্যান কেবল পরিবেশ-বান্ধবই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও এসি'র চেয়ে বেশি উপকারী হতে পারে। এই প্রতিবেদনে আমরা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দেখব, কেন গরমের দিনে কিছু পরিস্থিতিতে ফ্যান এসি’র চেয়ে ভালো বিকল্প, এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী এবং এতে কী কী স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে।

এসি বনাম ফ্যান: একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

এসি এবং ফ্যান—দু'টিই কক্ষকে শীতল করে, কিন্তু তাদের কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এসি কিভাবে কাজ করে?

এসি মূলত কক্ষের বাতাস থেকে তাপ এবং আর্দ্রতা শোষণ করে নেয় এবং তার পরিবর্তে ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস বাইরে বের করে দেয়। এটি একটি আবদ্ধ স্থানে কাজ করে, যেখানে বাইরের বাতাসের চলাচল সীমিত থাকে। এসির রেফ্রিজারেন্ট এবং কম্প্রেশন সিস্টেম কক্ষের তাপমাত্রাকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।

ফ্যান কিভাবে কাজ করে?

ফ্যান কক্ষের বাতাসকে ঠান্ডা করে না। এর প্রধান কাজ হলো বাতাসকে সঞ্চালিত করা। ফ্যানের বাতাস আমাদের ত্বকের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘামকে দ্রুত বাষ্পীভূত হতে সাহায্য করে। এই বাষ্পীভবনের প্রক্রিয়াটি শরীর থেকে তাপ শোষণ করে নেয়, যা আমাদের শীতল অনুভব করায় (Evaporative Cooling)। ফ্যান বাইরের বাতাসকেও ঘরের ভেতরে নিয়ে আসতে পারে, যা বাতাসকে সতেজ রাখে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনটি এগিয়ে?

যখন তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে (যেমন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি), তখন শরীর ঘাম তৈরি করে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। ফ্যান এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে, আর্দ্রতা অত্যাধিক বেশি হলে (যেমন ৮০% এর উপরে) ফ্যানের কার্যকারিতা কমে যায়, কারণ বাতাস তখন আর সহজে ঘাম বাষ্পীভূত করতে পারে না। সেক্ষেত্রে, এসি আর্দ্রতা কমানোর মাধ্যমে বেশি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সাধারণ গ্রীষ্মকালীন আর্দ্রতায় ফ্যান বেশ কার্যকর।

ফ্যান ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত সুবিধা:

প্রকৃতপক্ষে, ফ্যান ব্যবহার করার কিছু সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে যা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়:

১. প্রাকৃতিক বাতাস ও অক্সিজেনের প্রবাহ: ফ্যান ঘরের বাতাসকে বাইরে থেকে আসা তাজা বাতাসের সাথে মিশিয়ে দেয় (যদি জানালা খোলা থাকে)। এসির ক্ষেত্রে কক্ষটি সাধারণত বদ্ধ থাকে, ফলে ভেতরের বাতাস বারবার রিসার্কুলেট হয়, যা অক্সিজেনের পরিমাণ কমাতে পারে এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে। প্রাকৃতিক বাতাস মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং সার্বিক সতেজতার জন্য উপকারী।

২. ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ: এসি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়, যা কক্ষের বাতাসকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তোলে। এই শুষ্ক বাতাস ত্বক, চোখ এবং নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে শুষ্ক করে দিতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া, চুলকানি, চোখের শুষ্কতা এবং সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান বাতাসকে শুষ্ক করে না, বরং এটিকে কেবল সঞ্চালিত করে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৩. শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হ্রাস: এসির ফিল্টার যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হয়, তবে তাতে ধুলো, পরাগ, ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে। এসি চালু করলে এই ক্ষতিকর কণাগুলো বাতাসের সাথে মিশে শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে, যা অ্যালার্জি, হাঁপানি এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা (যেমন 'সিক বিল্ডিং সিনড্রোম') বাড়িয়ে তোলে। ফ্যান এমন কোনো সমস্যা তৈরি করে না, বরং বাতাস চলাচলের মাধ্যমে রুমের ভেতরের বায়ুমান উন্নত করে।

৪. শরীরের তাপমাত্রার প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ: ফ্যান শরীরের নিজস্ব তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে (ঘাম বাষ্পীভবন) সমর্থন করে। এসি শরীরকে কৃত্রিমভাবে ঠান্ডা করে, যার ফলে শরীর তার প্রাকৃতিক তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কিছুটা হলেও হারাতে পারে। এতে এসি থেকে হঠাৎ গরম পরিবেশে গেলে শরীরের মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়, যা 'হিট স্ট্রেস'-এর কারণ হতে পারে।

৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ-বান্ধব: এসি ফ্যানের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। একটি এসি প্রায় ১০-২০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায়শই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, যা কার্বন নিঃসরণ করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখে। ফ্যানের ব্যবহার কার্বন পদচিহ্ন কমাতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে পারিবারিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৬. শব্দ দূষণ হ্রাস: আধুনিক ফ্যানগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম শব্দ করে। অন্যদিকে, এসির কম্প্রেশার এবং ফ্যানের শব্দ অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে।

৭. সহজলভ্যতা ও বহনযোগ্যতা: ফ্যান এসির তুলনায় অনেক বেশি সহজলভ্য এবং দামে সস্তা। এটি সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায়, যা ভাড়াটিয়া বা যাদের স্থায়ী আবাসন নেই তাদের জন্য সুবিধাজনক।

কখন ফ্যানই সেরা বিকল্প?

কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফ্যান এসি'র চেয়ে ভালো বিকল্প:

 * যখন তাপমাত্রা অসহনীয় নয়: যদি তাপমাত্রা খুব বেশি না হয় এবং বাতাসের আর্দ্রতা সহনীয় থাকে, তখন ফ্যানই যথেষ্ট।

 * খোলা বা বাতাস চলাচলকারী স্থানে: যেসব কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে, সেখানে ফ্যান বাতাসকে দ্রুত সতেজ রাখতে পারে।

 * বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চাইলে: বিদ্যুৎ বিল কমাতে বা পরিবেশ সচেতন হলে ফ্যান একটি আদর্শ পছন্দ।

 * শ্বাসযন্ত্র বা ত্বকের সমস্যা থাকলে: যাদের অ্যালার্জি, হাঁপানি বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা আছে, তাদের জন্য ফ্যান এসির চেয়ে বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

 * দীর্ঘক্ষণ ঘুমের জন্য: গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকে ফ্যানের মৃদু শব্দকে 'হোয়াইট নয়েজ' হিসেবে পছন্দ করেন, যা তাদের ঘুমাতে সাহায্য করে। তবে এসি'র শীতল পরিবেশ অনেকের শ্বাস নিতে কষ্ট বা অস্বস্তি তৈরি করে।

কিছু সতর্কতা:

যদিও ফ্যান অনেক উপকারী, তবে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

 * অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা: যদি তাপমাত্রা খুব বেশি (যেমন ৪২-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে) হয় এবং বাতাসের আর্দ্রতাও খুব বেশি থাকে, তবে ফ্যান একা শরীরকে পর্যাপ্তভাবে ঠান্ডা করতে নাও পারতে পারে। এই অবস্থায় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকলে এসি বা শীতল আশ্রয় প্রয়োজন হতে পারে।

 * ডিহাইড্রেশন: ফ্যান ঘামের বাষ্পীভবন বাড়ায়, তাই ফ্যান ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় ডিহাইড্রেশন হতে পারে।

 * পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা উচিত যাতে ব্লেডে ধুলো জমে বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে।

উপসংহার:

এসি নিঃসন্দেহে তাৎক্ষণিক শীতলতা প্রদান করে, কিন্তু স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে ফ্যান তার নিজস্ব সুবিধাগুলো নিয়ে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আমাদের জলবায়ু এবং জীবনযাত্রার জন্য ফ্যান প্রায়শই একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাধান। আমরা যদি এসির বিকল্প হিসেবে ফ্যানের সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতন হই এবং সঠিক পরিস্থিতিতে এর ব্যবহারকে উৎসাহিত করি, তাহলে তা কেবল আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যই নয়, আমাদের পরিবেশ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আসুন, তীব্র গরমের সময় কেবল এসির উপর নির্ভরশীল না হয়ে, ফ্যানের প্রাকৃতিক শীতলতার গুরুত্বকেও উপলব্ধি করি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সেরা ১০টি হিডেন ট্র্যাভেল স্পট – যা এখনো অনেকেই জানে না! 📅 প্রকাশকাল: ৮ জুন ২০২৫

ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ট্রাম্প বনাম মাস্ক: প্রযুক্তির টাইকুন ও রাজনীতির মহারথীর প্রকাশ্য দ্বৈরথ