২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা

ছবি
 ২০২৫: শোক, বিবর্তন এবং এক নতুন ইতিহাসের যাত্রা ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগঘন বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একদিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে, অন্যদিকে দেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা ২০২৫ সালের সেই সব ঘটনা ও অঘটনগুলো তুলে ধরছি যা আমাদের জাতীয় জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ১. বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ: একটি যুগের অবসান ২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী এবং আপসহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।  * মহাপ্রয়াণ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে তাঁর এই প্রস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।  * রাষ্ট্রীয় শোক: তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর সারাদেশে সাধারণ ছুটি পালন কর...

ভূমিকম্প হলে আপনার করণীয়—প্রাণ বাঁচানোর নির্দেশিকা


ভূমিকম্প হলে আপনার করণীয়—প্রাণ বাঁচানোর নির্দেশিকা
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আকস্মিকভাবে আঘাত হানতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদের এই বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে, আমাদের জানতে হবে জরুরি মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে রক্ষা করা যায়। আপনার ও আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভূমিকম্পের সময়, আগে এবং পরে আপনার করণীয় সম্পর্কে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:

 

১. ভূমিকম্পের আগে আপনার প্রস্তুতি
ভূমিকম্প আঘাত হানার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি আপনার জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ক) জরুরি সরঞ্জাম কিট তৈরি করা:
একটি ‘জরুরি কিট’ বা 'সারভাইভাল ব্যাগ' প্রস্তুত রাখুন। এই কিটে যা যা থাকা আবশ্যক:
 * খাবার ও পানি: কমপক্ষে তিন দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার (শুকনো ও সহজে নষ্ট না হওয়া) এবং বিশুদ্ধ পানি।
 * ফার্স্ট এইড কিট: ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, ব্যথানাশক ওষুধ এবং আপনার প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যক্তিগত ওষুধপত্র।
 * যোগাযোগ ও আলো: ব্যাটারিচালিত টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, হুইসেল (সাহায্যের জন্য), এবং একটি পাওয়ার ব্যাংকসহ মোবাইল ফোন।
 * নগদ অর্থ ও কাগজপত্র: কিছু নগদ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রের ফটোকপি একটি জলরোধী ব্যাগে রাখুন।
 * অন্যান্য: একটি মাল্টিপারপাস টুল, মাস্ক, গ্লাভস এবং কম্বল/বৃষ্টিরোধী সামগ্রী।
খ) নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করা:
 * বাড়ির মধ্যে কোথায় কোথায় আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে (যেমন: মজবুত টেবিলের নিচে বা অভ্যন্তরীণ দরজার চৌকাঠের নিচে), তা আগে থেকেই পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করুন।
 * নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করার সময় জানালা, কাঁচের দরজা, ঝুলন্ত বস্তু এবং আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে।
গ) ভবন ও আসবাবপত্র সুরক্ষিত করা:
 * বাড়ির কাঠামো ঠিক আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করান।
 * ভারী আসবাবপত্র (বুকশেলফ, আলমারি) দেওয়ালের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে দিন, যাতে কম্পনের সময় তা গড়িয়ে না পড়ে।
 * ভারী জিনিসপত্র নিচের তাকগুলোতে রাখুন।
ঘ) মহড়ার আয়োজন করা:
 * পরিবারের সবাই মিলে নিয়মিতভাবে "ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড অন" (Drop, Cover, and Hold On) মহড়া অনুশীলন করুন।

 

২. ভূমিকম্প চলাকালীন আপনার করণীয়
ভূমিকম্প শুরু হওয়ার মুহূর্তটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই সময় দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জীবন রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
ক) ঘরের ভেতরে থাকলে:
 * তাৎক্ষণিক আশ্রয় নিন: দ্রুত নিচে বসে পড়ুন (Drop)। কোনো মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে মাথা ও ঘাড় ঢেকে ফেলুন (Cover)। কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত টেবিলের পায়া শক্ত করে ধরে থাকুন (Hold On)।
 * টেবিল না থাকলে, ঘরের ভেতরের দিকের একটি মজবুত দেয়ালের পাশে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন। দুই হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।
 * রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা দ্রুত বন্ধ করুন।
 * ভূমিকম্পের সময় কখনোই লিফট ব্যবহার করবেন না বা দৌঁড়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না। সিঁড়ি ব্যবহারও বিপজ্জনক হতে পারে।
খ) ঘরের বাইরে থাকলে:
 * বহুতল ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, বিলবোর্ড এবং ফ্লাইওভার থেকে দূরে সরে খোলা জায়গায় চলে আসুন।
 * মাটিতে বসে থাকুন এবং কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকুন।
গ) গাড়িতে থাকলে:
 * ধীরে ধীরে গাড়ি থামিয়ে দিন। তবে ব্রিজ, ফ্লাইওভার বা টানেলের নিচে থামাবেন না।
 * গাড়ির ভেতরেই থাকুন। সিট বেল্ট বাঁধা অবস্থায় মাথা ও মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন।
 * কম্পন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালানো শুরু করবেন না।

 

৩. ভূমিকম্পের পর আপনার করণীয়
কম্পন থেমে গেলেই বিপদ পুরোপুরি কেটে যায় না। আফটার শক (Aftershock) এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
ক) আঘাত পরীক্ষা করা:
 * প্রথমেই নিজেকে এবং আপনার আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের কোনো আঘাত লেগেছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। মারাত্মকভাবে আহত হলে ফার্স্ট এইড দিন।
খ) সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে আসা:
 * কম্পন বন্ধ হলে সতর্কতার সাথে নিরাপদ স্থানে (খোলা মাঠ বা পার্ক) চলে আসুন। আপনার মাথা, ঘাড় ও মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন।
 * বাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জুতো পরে হাঁটুন, কারণ কাঁচ বা ধারালো বস্তুর টুকরা থাকতে পারে।
গ) সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো:
 * গ্যাস লিক হয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন। গ্যাসের গন্ধ পেলে দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিন, গ্যাসের মেইন লাইন বন্ধ করে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে ভবন ছেড়ে বের হয়ে যান। কোনো অবস্থাতেই আগুন জ্বালাবেন না, বৈদ্যুতিক সুইচ অন/অফ করবেন না।
 * বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলে বা শর্ট সার্কিট হলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।
 * দেয়াল বা ছাদে বড় ফাটল থাকলে বা ভবন হেলে গেলে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
 * টেলিফোন লাইন ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য লাইনগুলো খালি রাখুন। জরুরি খবর শোনার জন্য ব্যাটারিচালিত রেডিও ব্যবহার করুন।
ঘ) আফটার শক সম্পর্কে সচেতন থাকা:
 * ভূমিকম্পের পর আফটার শক (পরবর্তী ছোট কম্পন) হতে পারে। প্রধান কম্পনের সময় আপনি যা যা করেছেন, আফটার শকের সময়ও ঠিক সেইভাবেই আশ্রয় নিন এবং সতর্ক থাকুন।

 

শেষ কথা
ভূমিকম্পকে ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে এর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকা আমাদের হাতেই। আজকের এই নির্দেশিকাটি মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করলে আপনি এবং আপনার পরিবার একটি বড় ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারবেন। মনে রাখবেন, ভূমিকম্পের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত, স্থিরতা এবং সঠিক আশ্রয় আপনার জীবনরক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সেরা ১০টি হিডেন ট্র্যাভেল স্পট – যা এখনো অনেকেই জানে না! 📅 প্রকাশকাল: ৮ জুন ২০২৫

ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ট্রাম্প বনাম মাস্ক: প্রযুক্তির টাইকুন ও রাজনীতির মহারথীর প্রকাশ্য দ্বৈরথ